অঞ্জনা চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার-
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার স্থলবাড়ি গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান সবুজের পক্ষে আদালতের দুটো রায় থাকার পরেও তার জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। রায়ের কাগজপত্র দেখালেও প্রতিপক্ষের লোকজন তা অস্বীকার করে জমি দখলের জন্যে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই কৃষক। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আদালতের রায়ে দেখা যায়, স্থলবাড়ী মৌজার আরএস ৮২৮ খতিয়ানের ২৩০৪ দাগের ৪০ শতাংশ জমির মধ্যে ১৫ শতাংশ জমি ১৯৮৯ সালের দলিলমূলে কৃষক সবুজের মাতা কহিনুর বেগম মনেজা বেগম গংদের নিকট থেকে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। এরপর ওই জোতের আরও সম্পত্তিও বিক্রয় হয়। কিন্তু দলিল লেখার সময় ২৩০৪ দাগ লিখতে গিয়ে ভুলক্রমে ১৩০৪ নম্বর দাগের উল্লেখ করা হয়। অথচ ওই খতিয়ানে ১৩০৪ নম্বর নামের কোন দাগেরই উল্লেখ নেই। এদিকে দলিলে ভুল আছে বিষয়টি টের পেয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বিবাদী মনেজা বেগমের ওয়ারিশানগণ ২০১৩ সালে স্থানীয় তহশিল অফিসে গিয়ে নিজেদের নামে নামজারির আবেদন করে তাদের নামে আলাদা খতিয়ান করে নেন। এরপর থেকে তারা নামজারির মূলে ওই জমি নিজেদের বলে দাবী করে। বিষয়টি জানতে পেরে কহিনুর বেগম প্রথমে নিম্ম আদালতে দলিলের দাগ সংশোধনের আবেদন করলে বিচারিক আদালত ৪৫/২০১৩ নং মোকদ্দমায় প্রদত্ত বিগত ২৯/২/২০১৬ তারিখে একটি এবং ৭/৩/২০১৬ তারিখে আরেকটি আদেশ বাদী কহিনুর বেগমের পক্ষে দেন। পরে এ নিয়ে বিবাদী মহামান্য হাইকোট আপিল করলে শুনানী শেষে গত ২৭/১২/২০২৩ সালে নি¤œ আদালতের রায় বহাল রাখেন। কহিনুরের ওয়ারিশ সাইদুল ইসলাম সবুজ আদালতের রায় বিবাদীদের জানালেও তারা তাতে কর্ণপাত না করে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিন গেলে সবুজ জানান, রায় পাবার পরে নামজারী বাতিলের আবেদন করেছি। এটা জানতে পেরে বিবাদী মনেজা বেগমের ওয়ারিশ শহিদুল, আতিকুল ও রব্বানীরা আমাদের পুকুর থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়েছে। আমাদের জায়গায় জোরপূর্বক ঘর তোলার চেষ্টা করছে।
কাজিপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান আকরামুল হক জানান, মিস কেস পেয়েছি। শীঘ্রই শুনানী করা হবে।
Leave a Reply